রাজধানীতে ডিএমপির চিরুনি অভিযান: লক্ষ্য তালিকার ৩৪২ চাঁদাবাজ।
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
৩০-০৩-২০২৬ ০৭:৪৭:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩০-০৩-২০২৬ ০৭:৪৭:১৪ অপরাহ্ন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মাহফুজুর রহমান :
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা চাঁদাবাজির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে বড় ধরনের অ্যাকশনে নামছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ইতোমধ্যে ৩৪২ জন দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজের একটি বিশেষ তালিকা চূড়ান্ত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এই তালিকা ধরে শিগগিরই দেশব্যাপী সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের অভিযানে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো চাঁদাবাজির ধরণ ও ক্ষেত্র বিবেচনা করে অপরাধীদের পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছে: পরিবহন খাত- মহাসড়ক ও বাস টার্মিনাল ফুটপাত- ক্ষুদ্র হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান। বাজার - এলাকাভিত্তিক পাইকারি ও খুচরা বাজার। স্ট্যান্ড- অটোরিকশা, টেম্পো ও লেগুনা স্ট্যান্ড। অস্ত্রধারী চক্র - যারা ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অংকের অর্থ আদায় করে।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কারওয়ান বাজার ঘিরেই অন্তত ৯টি চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিন এই এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক প্রতি ১০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ভ্যানচালকদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হয়। সম্প্রতি এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, কারওয়ান বাজার কেন্দ্রিক চক্রগুলোকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নেপথ্যে থাকা মদদদাতাদেও তালিকায় আনা হয়েছে। শীঘ্রই দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীর পেছনে কোনো রাজনৈতিক শক্তি থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাঁদাবাজি বন্ধ করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মহাসড়ক ও স্ট্যান্ডগুলোতে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তাধীন অভিযোগ ২,৩২৫টির বেশি।
গত ১০ মাসে গ্রেপ্তার হয়েছে ১,০০০ জনের বেশি।
এছাড়াও গত ৬ মাসে ডিএমপির ৫০ থানায় ৪১৯টি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নতুন মুখ।
ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের ভিত্তিতে এক হাজার ২৫৪ জন চাঁদাবাজের একটি ডাটা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী হাতিরঝিলে ২০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৪৪, তেজগাঁওয়ে ১০৫, শেরেবাংলা নগরে ১৩, মোহাম্মদপুরে ২২, আদাবরে চার, মিরপুর ২৩, তুরাগে ১২, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ১৩, উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ১৪, উত্তরখানে ১৭, দক্ষিণখানে ১২, বিমানবন্দরে ২৩, গুলশানে ১৪, খিলক্ষেতে ১৬, ভাটারায় ছয়, বাড্ডায় চার, বনানীতে ১৫, ভাষানটেকে পাঁচ, কাফরুলে চার, মিরপুরে ১২২, পল্লবীতে ৩৩, দারুস সালামে ছয়, শাহ আলীতে ১৬, রূপনগরে ১২, শাহবাগে ১৪, কলাবাগানে আট, নিউ মার্কেটে ৩৩, ধানমন্ডিতে ১২, রমনায় ১৪, হাজারীবাগে ৫৪, মতিঝিলে ৩৪, পল্টনে ৩৭, শাহজাহানপুরে ২২, সবুজবাগে ২৪, মুগডায় ১৩, খিলগাঁওয়ে ২৩, রামপুরায় ২৩, কদমতলীতে ২৩, ডেমরায় ১২, যাত্রাবাড়ীতে ৩৪, লালবাগে ৪৫, গেণ্ডারিয়ায় ছয়, শ্যামপুরে ৫৫, কোতোয়ালীতে ৩৩, সূত্রাপুরে ২৩, বংশালে ৩৪, চকবাজারে ৪৪, লালবাগে ৩৪ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ২৩ জনের নাম রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু মাঠ পর্যায়ের চাঁদাবাজ নয়, বরং তাদের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী গডফাদার'দের আইনের আওতায় আনতে পারলেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে ফিরতে পারবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স